ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা মানেই অঘোষিত মৃত্যু ফাঁদ


নিখোঁজ সালেহ আহমদ, বয়স ৬০ বছরের কাছাকাছি। পেশায় একজন সব্জি বিক্রেতা। চকবাজার কাঁচাবাজারের ভিতর তাঁর সব্জির দোকান। গ্রামের বাড়ি পটিয়া উপজেলায়। চট্টগ্রামে তিনি থাকতেন চকবাজারের ভাড়া বাসায়।



রাত থেকে বৃষ্টির কারণে মুরাদপুর এলাকায় প্রচুর পানি জমেছিল। ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পা পিছলে নালায় পড়ে যান সালেহ আহমেদ।নালায় পানির স্রোত থাকায় তিনি তলিয়ে যান। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দলের দলনেতা বিপ্লব কুমার নাথ দেশকে জানান আজ বৃহস্পতিবার ৪ টা পর্যন্ত এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি নিখোঁজ ব্যাক্তিটিকে। তবে ২৪ ঘন্টা পর লাশটি কোন না কোন স্থানে ভেসে উঠবে। এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছি।


নিখোঁজ সালেহ আহমদের নিকট আত্মীয় মো. ফাহিম জানান, গতকাল বুধবার সকালে নাজিরহাট মাইজভাণ্ডার শরীফে যাওয়ার জন্য তিনি মুরাদপুর গিয়েছিলেন বাসে উঠতে গিয়ে পানির স্রোতে তলিয়ে যান। গত ১৯ জুন নগরের চান্দগাঁও বি-ব্লক এলাকায় জলাবদ্ধ সড়কে সিএনজি অটোরিকশায় তিন নারী যাচ্ছিলেন কর্মস্থলে। পথেই ঘটলো দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত পানির কারণে চালক সড়ক আর নালা চিহ্নিত করতে না পারায় অটোরিকশাটি পড়ে যায় নালায়। পথচারীদের সহায়তায় তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও যেতে হয় হাসপাতালে।


৩০ জুন ঘটে আরও একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। নগরের ষোলশহর চশমা হিল এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা খালে পড়ে নিখোঁজ হয় ৩ জন। পরে চালকসহ ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এমন ঘটনা নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নগরবাসীর জন্য। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কই যেন হয়ে ওঠে মরণফাঁদ। জলাবদ্ধতায় রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ফলে রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান উল্টে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ম্যানহোল-নালায় পড়ে পথচারীরা বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে গর্তে উল্টে যাচ্ছে যানবাহন।


এসব দুর্ঘটনায় সেবা সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডকে দায়ী করছেন নগরবাসী। নালা প্রশস্তকরণের কাজ চললেও কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে তাদের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে। নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান দেশকে বলেন, বিভিন্ন রকম কাজ চলমান থাকায় অস্থায়ী হিসেবে হলেও বাঁশ অথবা লাল ফিতা দিয়ে সংস্কারাধীন নালার পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা জরুরি। তা না হলে এমন অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে সিটি করপোরেশন, সিডিএ’র মতো প্রতিষ্ঠানকে তদারকি বাড়াতে হবে।

অন্যদিকে সিডিএ বলছে নালার পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। আমরা শুধু প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করি। তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। সিডিএ প্রধান প্রকৌশলী মুঠোফোনে দেশকে দেয়া বক্তব্যে সরাসরি চসিককে দায়ী করছেন। তবে এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন উর্ধতন এক প্রকৌশলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফোন কেটে মোবাইল বন্ধ করে দেন। সিডিএ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে অনেকটা অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে এ বিষয়টি নিয়ে।

মুরাদপুর স্থানীয় বাসিন্দা রহমত উদ্দিন দেশকে বলেন, ছোট বেলা থেকে এ এলাকায় বড় হয়েছি। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে যায়, তুমুল বৃষ্টিতে মনে হয় সাগরে ভাসছি আমরা। এর উপর বিষফোঁড়া হয়েছে রাস্তা খোঁড়াখুড়ি ও নিরাপত্তাহীন কর্মকান্ড। বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর, ষোলশহর, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, চকবাজারসহ বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। চট্টগ্রাম নগরীতে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া