ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

খুলনায় করোনা টেস্টের টাকা আত্মসাৎ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা

সুনীল কুমার দাস, ব্যুরো প্রধান (খুলনা)
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ১১:২৫ অপরাহ্ণ


খুলনার জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাস (৪৫) করোনা টেস্টের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ করার পর আত্মগোপন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর তিনি অফিস থেকে পালিয়ে যান।পরে তাকে খুজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সিভিল সার্জন অফিস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রনালয়কে অবহিত করার পর সোমবার রাতে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।তবে এ ঘটনায় কতৃর্পক্ষের উদাসীণতাকে দুষছেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।



খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, দেশে মহামারী করোনা সংক্রমণ শুরু হলে সরকারের নির্দেশে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা আরম্ভ হয়। নমুনা পরীক্ষার শুরুতে বিনামূল্যে করা হলেও একই বছরের জুলাই থেকে নমুনার পরীক্ষায় বুথ ও হাসপাতালে ২০০ টাকা, বাসায় ৫০০ টাকা এবং বিদেশগামীদের জন্য ৩হাজার ৫০০ টাকা ফিস গ্রহন শুরু হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে বুথ ও হাসপাতালে ১০০ টাকা, বাসায় ৩০০ টাকা এবং বিদেশগামীদের জন্য ১হাজার ৫০০ টাকা ফিস ধার্য করা হয়।জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাশ প্রথম থেকেই নমুনা পরীক্ষার ফিস গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি ল্যাব ইনচার্জেরও দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০২০ সালের ০২ জুলাই থেকে প্রতিদিন যত সংখ্যক মানুষ করোনা নমুনা পরীক্ষা করাতেন তার চেয়ে কম সংখ্যক মানুষের নাম খাতায় লিপিবদ্ধ করে প্রকাশ কুমার বাকি টাকা আত্মসাৎ করতেন। প্রকাশ কুমার যে কয়জনের তালিকা দিতেন সে অনুযায়ী ক্যাশিয়ার টাকা বুঝে নিয়ে হাসপাতালের ব্যাংক একাউন্টে জমা দিতেন।


তিনি আরও জানান, নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ও অর্থ জমার বিষয়ে তাদের সন্দেহ হওয়ার পর চলতি ২০২১সালের এপ্রিল মাসে চিঠি দিয়ে মেডিকেল টেকনোরোজিষ্ট প্রকাশ কুমারের কাছে হিসাব চাওয়া হয়। কিন্তু সে হিসাব দিতে বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। এরপর গত ২২ আগষ্ট করোনা টেষ্টের প্রাপ্ত অর্থের হিসাব-নিকাশের জন্য ০৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ১৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে করোনা পরীক্ষা বাবদ যে পরিমাণ টাকা কোষাগারে জমা হওয়ার কথা তার চেয়ে ০২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কম জমা হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়।পরে তদন্ত কমিটি মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসা করলে প্রকাশ কুমার টেষ্ট বাবদ টাকা আদায় ও ব্যাংকে জমার হিসাবে গড়মিল রয়েছে বলে স্বীকার করে। এরপর হিসাবে গড়মিলের কারণে তাকে শোকজ করে লিখিতভাবে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার তার হিসাব ও টাকা জমা দেওয়ার শেষ দিন ধার্য্য ছিল। এদিন দুপুরে অফিসে বসে হিসাব করার এক পর্যায়ে প্রকাশ কুমার কাউকে কিছু না জানিয়ে অফিস থেকে দ্রুত বাইরে চলে যান। এরপর থেকে তিনি আর অফিসে ফিরে আসেননি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তাকে দ্বিতীয়বার শোকজ করে তার বাসার ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়। তারও কোন উত্তর দেয়নি। পরে তার মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার ১০নং রোডের ১২৮নং ভাড়া বাড়িতে অফিস থেকে লোক পাঠিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।


সিভিল সার্জন আরও জানান, সোমবার(২৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে যেন দেশত্যাগ করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।


খুলনা জেনারেল হাসাপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম মুরাদ এ বিষয়ে বলেন, এ বিষয়টি আমার এখতিয়ারাধীন কোন বিষয় নয় তাই এ বিষয়ে আমি কোন কিছুই বলতে পারবো না। এটা সম্পূর্ণ সিভিল সার্জনের বিষয় তাই তিনিই ভাল বলতে পারবেন। খুলনা জেনারেল হাসাপাতালের হিসাবরক্ষক জি এম তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না এ বিষয়ে আপনারা সিভিল সার্জন স্যারের সাথে কথা বলেন।


হাসপাতালের ক্যাশিয়ার তপতী সরকার বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার প্রতিদিন আমার নিকট যে কয়জনের নমুনা পরিক্ষার তালিকা এনে দিতো আমি সে অনুযায়ী তার নিকট থেকে টাকা বুঝে নিতাম। এ তালিকার বাইরে তার নিকট নমুনা পরিক্ষার আরো টাকা গচ্ছিত থাকতো কিনা এ বিষয়ে আমার জানা নেই।


মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমারের অফিসে দেওয়া মুঠোফোন নম্বর (০১৭৩১৮৬২৫২৪ ও ০১৯৬৭৬৩৭৭৪৪) দুটিতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার স্ত্রী মাধবী দাস জানান, গত বৃহষ্পতিবার নড়াইলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। তারপর আর কোন খোজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইলও বন্ধ রয়েছে। আমরাও খুবই চিন্তিত রয়েছি।


করোনার নমুনা পরীক্ষার টাকা আত্মসাতের বিষয়ে খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের এতগুলো টাকা আত্মসাৎ করলো কিন্তু কেউ জানতে পারলো না তাহলে এদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি দায়িত্ব পালন করছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনের উদাসীনতার কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তারা এ বিষয়ে দায়িত্ব কোনভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শুধুই দর্শক হিসেবে থাকবেন এটা সাধারণ মানুষের কাম্য নয়। ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত

ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আরো এক বছর থাকছেন নির্ভীক শফিকুল ইসলাম

বেগমগঞ্জ থানার ওসিসহ পাঁচজনকে বরখাস্তের নির্দেশ

নিজ অফিসের গাড়ি কেনার টাকা স্বাস্থ্যসেবায় দিলেন প্রধানমন্ত্রী

হেফাজতের নতুন আমির হলেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

এলজিইডি উপ-সহকারী প্রকৌশলীর মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল

ভারত ভ্রমণে লাগবে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র

নক্ষত্রের মৃত্যুর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী

লাশ ছাড়া কবর দাবি প্রতারণা ও অনৈসলামিক : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

১ আগস্ট থেকে খুলছে গার্মেন্টসসহ শিল্প-কারখানা

বাঁশখালীতে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু

পেকুয়ায় ৪৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

আখাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু