1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. Khulnabureaudesh@gmail.com : Khulna bureau : Khulna bureau
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০২:১১ অপরাহ্ন

কোরবানি দিতে অনাগ্রহ রাজধানীবাসির

হাসান মাহমুদ রিপন
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

একদিকে পশুর হাটের অপ্রতুলতা অপরদিকে অনলাইনে কোরবানি প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত খরচ। তার ওপর বাড়ির আঙিনায় কোরবানি দিতে বাড়িওয়ালাদের বিধি-নিষেধ। আবার ধর্মীয় বিধানমতে কোরবানির মাংস বণ্টন নিয়েও রয়েছে জটিলতার আশঙ্কা। এতোসব দুশ্চিন্তার পাশাপাশি অনেকেই আবার রয়েছেন চরম আর্থিক সংকটে। তাছাড়া করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আর্থিক মন্দা ও আতঙ্কতো রয়েছেই। যার ফলে এবার কোরবানি দিতে অনেকেই জানিয়েছেন অনাগ্রহ। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।


জানা গেছে, করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে বেশির ভাগ ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব শুরু হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছে। এমনকি অনেক উচ্চবিত্তের সঞ্চয়েও বড় টান পড়েছে। ইতোমধ্যেই কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আবার বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান করেছে কর্মী ছাঁটাই। তাছাড়া কোনো কোনো কোম্পানি বেতন কমিয়েছে। তাছাড়া কোরবানির পশু কেনা, বাইরে থেকে পেশাদার কিংবা অপেশাদার কসাই ডেকে এনে মাংস বানানো এবং তা প্রতিবেশি-আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের বিলি-বণ্টন করতে গিয়ে আবার করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয় কিনা এমন আশঙ্কাও নগরবাসীর মধ্যে। যার ফলে গতবারের তুলনায় এবার অনেকেই কোরবানি দিতে অনিহা প্রকাশ করেছেন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. বিল্লাল আকন বলছিলেন, ‘২০ বছর ধরে ঢাকার বাসায় কোরবানি করে আসছি। এ বছর আর্থিক সংকট রয়েছে। এ ছাড়া ফ্ল্যাট মালিক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙিনায় কোরবানি না করার বিষয়ে। তাই এ বছর কোরবানি না করার সম্ভাবনা বেশি।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঈদুল ফিতর উদ্যাপনে উৎসবের আমেজ ছিল না। ঈদের পর সাধারণ ছুটি প্রত্যাহার করে সরকার ‘সীমিত আকারে’ প্রায় সব কিছুই খুলে দিয়েছে। সে কারণে ঘটা করে ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন এমন আশা করছিলেন নগরবাসী। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাঁদের কোরবানি দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।

নর্দ্দা এলাকার বাসিন্দা মো. রায়হানুল কবির বলেন, ‘ধর্মীয় বিধান মোতাবেক আমরা কোরবানি করি। কিন্তু করোনার মধ্যে আত্মীয়-স্বজন ও গরিব মানুষের মধ্যে মাংস বণ্টন করা নিয়ে খুব ঝামেলা হবে। ফলে কোরবানি না দেওয়ার পক্ষে আমি।’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মিরপুর ১২ নম্বর সড়কের বাসিন্দা মো. এনায়েত হোসেন খান বলেন, ‘প্রতি বছর ২৫ হাজার টাকা কোরবানির জন্য বরাদ্দ রাখি। কিন্তু এ বছর তা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া কাছাকাছি হাট না থাকার কারণে এ বছর কোরবানি না দেওয়ার পক্ষে আমি। অনলাইনে পশু কেনার প্রতি তেমন আগ্রহ নেই আমার।’

এদিকে ডিএনসিসির ডিজিটাল হাট থেকে পশু কেনার পর কোরবানি শেষে মাংস প্রক্রিয়াজাত করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোরবানি দিতে চাইলে গরুর দামের ২৩ শতাংশ অর্থ দিতে হবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। এ ছাড়া আরো দেড় হাজার টাকা দিতে হবে মাংস বাসায় পৌঁছানোর জন্য। অর্থাৎ এক লাখ টাকার গরু কিনে এসব প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য অতিরিক্ত ২৪ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে সেবাগ্রহীতাকে। এই খরচ মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

এ ছাড়া করোনার কারণে আঙিনায় কোরবানি না দিতে উৎসাহিত করছেন বাড়ির মালিকরা। করোনার কারণে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মাংস বিতরণ নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন কেউ কেউ। ফলে ঢাকায় কোরবানি না দেওয়ার পক্ষে তাঁরা। এ ছাড়া অন্য বছর বাইরে থেকে রাজধানীতে কসাই আসত। কিন্তু এ বছর তারা আসবে কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

পাবনা থেকে গাবতলী হাটে এসেছেন শাহ আলম। তিনি বলেন, গ্রামেও গরুর বেচাকেনা নেই। এ কারণে আগেভাগে ঢাকায় এসেছি। এখানেও গরুর দাম কম। যে দামে গরুগুলো কিনে এনেছি সে দামও বলছে না। এবার সারাদেশেই গরুর বাজার কম। প্রতিবছরের মতো মানুষ এবার এত কোরবানি দেবে না। গ্রামেও এ বিষয়টি টের পাওয়া গেছে। কারণ করোনার কারণে অনেকের চাকরি নেই। অনেকের বেতন কমে গেছে। অনেকে চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে গেছেন। তাদের পক্ষে এবার কোরবানি দেয়া সম্ভব না।

আবার চুয়াডাঙ্গা থেকে ১২টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন আলম নামের এক খামারি। তিনি বলেন, গরু এসে মনে হচ্ছে ক্ষতি হয়ে গেল। কারণ দুই দিন হয়ে গেল একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। গত বছর এমন সময়ে নিজের খামারের ১৫টি গরু বিক্রি করে আবার বাড়ি গিয়ে বড় ভাইয়ের খামারের ১০টি গরু নিয়ে এসে বিক্রি করেছিলাম। এবার হাটের হাবভাব ভালো লাগছে না।

করোনার কারণে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ৪০ শতাংশ পশু কম কোরবানী হবে বলে ধারনা করছেন, আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেন, ‘এবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পশু কোরবানী হবে না। করোনা মহামারী সহ এর ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কারনে এবারে বিগত বছরের তুলনায় কমপক্ষে ৪০ ভাগ নগরবাসী কোরবানি দিবেন না। যা ইতোমধ্যেই কোরবানির হাটগুলোতে ক্রেতা উপস্থিতির বিষয়টি লক্ষ্য করলেই অনুমেয়।’

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে ক্রেতা সংকটের কারনে পশুর হাটে বেপারী ও খামারীরা নানা ধরনের দু:খগাঁথা বিলাপ করতে শুরু করেছেন। হয়তোবা এর পরই শুরু হবে তাদের আহাজারি।’

জানা গেছে, এবার ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) এলাকার ১৭টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসিয়েছে। এর মধ্যে ডিএনসিসি এলাকায় একটি স্থায়ী এবং অস্থায়ী ৫টি সহ মোট ৬টি পশুর হাট বসেছে। স্থায়ী হাটটি গাবতলীতে। অস্থায়ী হাটগুলো হলো- উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ ভবন পর্যন্ত খালি জায়গায়; কাওলা শিয়াল ডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গায়; ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাচল ব্রিজ সংলগ্ন মস্তুল ডুমনী বাজারমুখী রাস্তার উভয় পাশের খালি জায়গায়; ভাটারা (সাইদ নগর) পশুর হাট এবং উত্তরখান মৈনারটেক হাউজিং প্রকল্পের খালি জায়গায়।

অন্যদিকে, ডিএসসিসি এলাকায় বসবে ১১টি হাট। উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা; হাজারীবাগে ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজির মাঠ সংলগ্ন উš§ুক্ত এলাকা; সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উš§ুক্ত জায়গা; আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা; রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা; লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব সংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ; কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা; আফতাব নগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই; এফ জি এইচ ও সেকশন-১ ও ২ এর খালি জায়গা; মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা; দনিয়া কলেজ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা এবং ধুপখোলা মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গাতে হাটগুলো বসেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, করোনাভীতি এবং আর্থিক অসঙ্গতির কারণে এবার অবিক্রীত গরুর হার ১৫ শতাংশও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে হাটে আনা ছাগল-ভেড়া সবই বিক্রি হয়ে যাবে। এমনকি সরবরাহের তুলনায় চাহিদা ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেশি হবে বলে মনে করেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ঈদুল আজহায় রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঁচ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছিল।

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:০৯
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৩১
    যোহরদুপুর ১২:০৪
    আছরবিকাল ৩:২৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৩৭
    এশা রাত ৭:৫৯

@ স্বত্ত দৈনিক দেশ, ২০১৯-২০২০

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ