1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. Khulnabureaudesh@gmail.com : Khulna bureau : Khulna bureau
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্টফোন কিনতে তালিকা তৈরির নির্দেশ বরেণ্য সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী আর নেই ডিএনসিসি মার্কেটকে আরবান হাসপাতাল করার পরিকল্পনা ডিএনসিসি মেয়রের বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্রীদের মুখোশ উন্মোচন প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী সিনহা হত্যায় ‘র’ ও ‘মোসাদ’ জড়িত, সন্দেহ ডা. জাফরুল্লাহর পর্যায়ক্রমে ১৫ আগস্টের পর থেকে সব ট্রেন চালু করা হবে এবারে ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪২ জন আরো ৩৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৮৭ ১৫ই আগস্ট বন্ধ থাকবে আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুমিল্লার পর্যটন কেন্দ্র শালবন বিহার খুলে দেয়ার দাবি সংস্লিষ্টদের

কোরবানির পশুর চামড়া কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ব্যবসায়ীরা

হাসান মাহমুদ রিপন
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

করোনার প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার বাজার মন্দা, সাভারের ট্যানারি পল্লীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারকে পুরোপুরি কার্যকর করতে না পারা, ব্যাংক ঋণ পেতে সমস্যা সহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত দেশীয় চামড়াশিল্প। ফলে আসন্ন কোরবানির ঈদে চামড়া সংগ্রহে ব্যবসায়ীরা সংকটের আশঙ্কা করছেন।


অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা যতই বলুক, চামড়া খাতের রফতানি বাড়বে। আমাদের চামড়াজাত পণ্যের বিশাল বাজার সম্ভাবনা রয়েছে। চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সব ধরনের উদ্যোগ নেয় হয়েছে।
করোনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। কমপ্লায়েন্সের (শ্রমিকবান্ধব)  কারণে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেক ক্রেতা। গত বছর কেনা চামড়ার ৫০ শতাংশ এখনও অব্যবহƒত রয়ে গেছে। নতুন চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে পাওয়া ঋণও পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে চলতি বছর কোরবানির পশুর চামড়া কেনার বিষয়ে তেমন আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। নতুন চামড়া কেনা হবে কি হবে না, এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এবারের কোরবানির পশুর চামড়ার কী হবে?
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমাদের দেশে চামড়া খাতে পরিবেশগত সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার ওপর করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি এ খাতকে আরো হুমকীর মধ্যে ফেলেছে। ট্যানারির মালিকরা হাজারীবাগ থেকে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে সরে আসতে অনেক বেশি সময় নিয়েছে। সাভারে এসেও পরিবেশের সমস্যার সমাধান হয়নি। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ জন্য সরকার এবং ট্যানারির মালিক উভয় পক্ষই তাদের দায় এড়াতে পারে না।’
জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, ‘চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং নেবো। সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আরও হবে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। ’
এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী জানান, চামড়াজাত পণ্যের বাজার বিশ্বজুড়েই মন্দা। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। তবে চামড়াজাত পণ্যের বহুমুখীকরণ হয়েছে, আরও হবে। এখন চামড়া দিয়ে শুধু জুতা বা ব্যাগ নয়, অনেক কিছুই তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্বে যার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
জানা গেছে, ২০২১ সালের মধ্যে চামড়া খাত থেকে ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০১৭ সালে চামড়াকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছিল সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে চামড়া খাতে মোট রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে মাত্র ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ আয় কমেছে ২৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। ইপিবি সূত্র আরও জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছর চামড়ায় প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যে রফতানির প্রবৃদ্ধি কমেছে ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং ফুটওয়্যার রফতানিতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছর চামড়াজাত পণ্য রফতানি আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল ১৩৮ কোটি ডলার। তা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। এর আগের বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে আয় হয়েছিল ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
২০১৯ সালে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঈদুল আজহা পালিত হয়েছিল। গতবছর ন্যায্য দাম না পেয়ে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া মাটিতে পুতে ফেলার মতো ঘটনা ঘটেছে। ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সংকট নিরসনে গতবছরই প্রথম কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এরপরও সমস্যার সুরাহা হয়নি। মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিলেন।
চামড়া শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ এ ব্যাপারে বলেন, ‘করোনা মহামারী ও পরিবেশবিষয়ক সমস্যায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অর্ডার কমে গেছে। এতে গত বছর সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া এখনো অনেক ট্যানারিতে পড়ে আছে। ফলে এবার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনে কোথায় রাখব? ব্যবসা ভালো না থাকায় অনেক ট্যানারি গতবার চামড়া কিনতে পাওয়া ঋণের অর্ধেকও শোধ করতে পারিনি। যে পরিমাণ ঋণ শোধ হয় তা আবারও দেওয়া হয়। তাই এবারে ঋণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে পুরনো ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এসব কারণে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় এ মৌসুমে আর্থিক সংকট থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনযায়ী কাঁচা চামড়া সংগ্রহ সম্ভব হবে না। এতে চামড়া খাতে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।’
ব্যবসায়ী এ নেতা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ছোট হয়ে গেছে। এখনও চামড়া শিল্পগুলোকে পুরোপুরি কমপ্লায়েন্স (শ্রমিক বান্ধব) করা যায়নি। সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রিয় বর্জ্য শোধনাগারটিকে শতভাগ কার্যকর করা যায়নি। এগুলো ঠিক করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, চামড়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় রফতানি খাত। এ খাতের উন্নয়নে সরকার সব কিছু করবে। চামড়া দেশের সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্পদ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তিনি জানান, করোনাসহ বিভিন্ন কারণেই এবছর মানুষ কম পশু কোরবানি দেবে। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চামড়া এবং চামড়া ব্যবসায়ীদের সমস্যা নিয়ে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গত ২২ জুনের সভায় আসন্ন কোরবানির ঈদে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন ও তাদের নতুনভাবে ঋণ সুবিধা, বকেয়া ঋণ বিশেষ বিবেচনায় তফসিলিকরণ, নমনীয় পরিশোধ সূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ওই বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এখন চামড়া শিল্প কারখানায় অবিক্রিত রয়ে গেছে ৩২শ’ কোটি টাকার চামড়া। এ বছর চামড়া ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে ৩ শতাংশ সুদে ৬শ’ কোটি টাকার ‘ক্যাশ ক্রেডিট’ দিতে চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে আগের ঋণ বøক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও ৩ বছরের সুদ মওকুফসহ অন্যান্য সুবিধা চেয়েছেন চামড়া শিল্প মালিকরা। চামড়ার শিল্পের বর্তমান অবস্থা আঁচ করতে পেরে ৮ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে কোরবানির চামড়া কিনতে ট্যানারি মালিকদের সহজ শর্তে ৩ শতাংশ সুদে ৫-৬শ’ কোটি টাকা ক্যাশ ক্রেডিট দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে সারাদেশ থেকে কমবেশি ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। মোট চামড়ার অর্ধেকের বেশি পাওয়া যায় কোরবানির সময়।
জানা গেছে, প্রতিবছর কোরবানির সময় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে মোট ৯০ থেকে ৯৫ লাখ পিস চামড়া পাওয়া যায়। যা সারাবছরের সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশ। তাই চামড়া শিল্পের ব্যাবসায়ীরা কোরবানির সময় তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করেন। তবে এবারে কোরবানি কম হবার আশঙ্কায় সাথে সাথে চামড়া সরবরাহও কম হতে পারে।
ক্রমেই কমছে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম। বিশ্বব্যাপী আর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম) চামড়ার সামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আসল চামড়ার সামগ্রির চাহিদা ৫০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছে ব্যাবসায়ীরা। অপরদিকে চামড়ার দাম কমার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে যাওয়া এবং করোনার প্রভাবকে দায়ী করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
চামড়া খাতের বিভিন্ন সংগঠন সূত্র জানায়, এ দেশের গুণগতমানের কাঁচা চামঙার বিশ্বব্যাপী চাহিদা রয়েছে। ভারতের বামতলা, কানপুর, চেন্নাই, পাঞ্জাবে কয়েক হাজার ট্যানারি আছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গরু জবাইয়ে কঠোরতা আরোপ করা হয়। এবারেও তা বহাল রেখেছে। গরুনীতিতে কঠোরতা আরোপের পর ভারতের ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়ার সংকট তৈরি হতে থাকে। এ দেশে কোরবানির ঈদে অধিক পরিমাণে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের সুযোগ থাকে। ভারতের চামড়া ব্যবসায়ীরা স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণের সুবিধা পায়। তাদের চাহিদা কাজে লাগিয়ে প্রতিবছর ঈদুল আজহায় এ দেশ থেকে বিপুল চামড়া পাচার হয়ে যায়।

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:১১
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৩২
    যোহরদুপুর ১২:০৪
    আছরবিকাল ৩:২৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৩৫
    এশা রাত ৭:৫৬

@ স্বত্ত দৈনিক দেশ, ২০১৯-২০২০

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ