ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

কেসিসি’র ৬০৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

সুনীল কুমার দাস, ব্যুরো প্রধান (খুলনা)
আগস্ট ২৬, ২০২১ ৭:১৯ অপরাহ্ণ


খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য ৬০৮ কোটি  ২ লাখ ৫৬ জার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে।



আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করেন। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১০৪কোটি টাকা বেশী। প্রস্তাবিত এ বাজেটে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৫ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা এবং সরকারি বরাদ্ধ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে প্রত্যাশিত উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০৯ কোটি ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।গত ২০২০-২১ অর্থ বছরে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০৪ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার টাকা। সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৩৬৯ কোটি ১৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা। তবে গত এক বছরে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার কাঙ্খিত কাজ করা সম্ভব হয়নি। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৩.২০ শতাংশ।


বাজেট অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির অর্থ ও সংস্থাপন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর শেখ মোঃ গাউসুল আজম। এ সময় কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আজমুল হক, প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলাম মুন্না, মেমরি সুফিয়া রহমান শুনু, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবির, প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সবাপতি মো: মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগসহ কেসিসির কাউন্সিলর, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, কেসিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণাকালে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বাজেটের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট খুলনা মহানগরীকে তিরোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে একটি উন্নয়নমূখী বাজেট। বিশ্ব মহামারী করোনা পরিস্তিতি বিবেচনায় এবারও বাজেটে নতুন কোন কর আরোপ করা হয়নি। বাজেটে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্যব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নাগরিকসেবা সম্প্রসারণ, কোভিড-১৯ প্রতিরোধ, মশকনিধন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, ধর্মীয় উপাসনালয়-পার্ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাস্তাঘাট উন্নয়ন, কেসিসি’র বিভিন্ন দপ্তর আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।


সিটি মেয়র বলেন, কেসিসি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এটি কেবল সরকারি বা বিদেশি সাহায্য ও ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে না। কেসিসিকে নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভর করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।সেজন্য বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত সকল স্থাপনার ওপর প্রচলিত নিয়মে কর ধার্য্য এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।


মেয়র আরও জানান, কেসিসির নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে এবং ব্যয় সংকোচন করে রাজস্ব তহবিল হতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে মোট ৫১কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাত থেকে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৮ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট উন্নয়নের সাথে সাথে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মানববর্জ্য উন্নয়ন এবং মশক নিধনের জন্য কঞ্জারভেন্সি খাতে ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এডিপির জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। উক্ত বরাদ্দ হতে পূর্ত খাতে ২৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এছাড়া নগরীতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দায়িত্ব খুলনা ওয়াসার হলেও বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি পানির চাহিদা মেটানোর জন্য গভীর ও অগভীর নলকূপকে সাবমারসিবল পাম্পে রূপান্তর করার জন্য এখাতে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে ভেটেরিনারি খাতে ৫০ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ্য খাতে ১০ কোটি ২ লাখ টাকা, কঞ্জারভেসি খাতে ১৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।


তিনি আরও জানান, বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন দাতা সংস্থার ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং চারটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব প্রকল্পে ২০২১-২০২২ অর্থ বছর ১৫৩ কোটি ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা পাওয়ার আশা করা যায়। জাতীয় এডিপিভুক্ত তিনটি প্রকল্পে ২০১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।একই সাথে খুলনা সিটি করপোরেশনকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করতে কেসিসির ভৌত অবকাটামো উন্নয়নের জন্য ২হাজার ৮৪১কোটি টাকার একটি প্রকল্প ইতিমধ্যেই মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে খুলনা মহানগরী বিশ্বের উন্নত শহরের আদলে উন্নীত হবে বলে সিটি মেয়র প্রত্যাশা করেন। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিনি নগরবাসী, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সহযোগীতা কামনা করেন।


বাজেট অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, খুলনা মহানগরীকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। গত নির্বাচনের পর দায়িত্ব নেয়ার আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়কের উন্নয়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্তার উন্নয়নে ১৪শো কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছিলেন। তার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি ক্সেত্রে উন্নয়ন কাজ যেন সুষ্ঠভাবে হয় সে বিষয়টি স্তানীয় কাউন্সিলররা দেখবেন। কোন উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দূর্নীতি হলে তার দায় সেখানকার কাউন্সিলরদেরকেই বহন করতে হবে। তিনি মহানগরবাসী ও সাংবাদিকদেরকে উন্নয়ন কাজ ‍বুঝে নেয়া ও তদারকির জন্য আহবান জানান। অনিয়ম ও দূর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন কার্যক্রম ও মহানগরী গড়তে তারা কাজ করছেন। কোথাও কোন অনিয়ম হলে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও তিনি হুশিয়ারী দেন।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া