ঢাকাসোমবার , ১৬ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

করোনা যোদ্ধা ডাঃ অমিত কুমার

মোঃ আবু আস-সাদিক, দামুড়হুদা প্রতিনিধি
আগস্ট ১৬, ২০২১ ১২:২৮ অপরাহ্ণ


ডাক্তারা সত্যিই ঈশ্বরের আরেক রুপ। ‘‘ডাক্তার মানে সে তো মানুষ নয়। আমাদের চোখে সে তো ভগবান…।’’ নচিকেতার গানের পরের লাইনগুলো যাই হোক না কেন, কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তাররা সত্যিই ঈশ্বরের আরেক রুপ। ডাঃ অমিত কুমার বিশ্বাস তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। করোনার এই মহামারীরে তাঁর মত এমন ডাক্তার পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।


জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ইং তারিখে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন করেন ডাঃ অমিত কুমার বিশ্বাস। সেই থেকে অদ্যবধি নিরালশভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এই তরুন মেধাবী ডাক্তার। সময়ের পদচারনায় তার পথচলাটা খুব বেশি ক্ষণকালের না হলেও ইতিমধ্যেই তিনি অর্জন করে নিয়েছেন জনপ্রিয়তার আসনটি। চারপাশে করোনা মহামারীর ভয়াবহতা যখন মানবিকতাকে খুজে ফিরছে ঠিক তখনই ডাঃ অমিত কুমার বিশ্বাস’রা মানবতার ব্রত নিয়ে মানুষের সেবাই নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশে করনা আক্রান্ত প্রথম রোগী সনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। সেই থেকে দেশের মানুষ অনেক কিছুরই স্বাক্ষী হয়ে গেছেন। আর এমন ক্রান্তিকালে যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানুষকে অকুতভয় বীরের মত সেবা দিয়ে গেছেন তাদের কাতারের একজন মানুষ ডাঃ অমিত কুমার বিশ্বাস। অনেক সীমাবদ্ধতা,অপ্রতুলতা ও অসহায়ত্বের মাঝেও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে এতটুকু পিছুপা হননি তিনি। একটা সময় ছিলো যখন করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেবার জন্য বা তাদের কাছে যাবার জন্য পর্যাপ্ত পি.পি.ই,মাস্ক পযর্ন্ত ছিলো না তখনও ভয় লেশহীন ভাবেই ওই সকল রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন তিনি। দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা কোন রোগীর কাছেই শোনা যায়নি তিনি তাদের চিকিৎসা দিতে কোন অবহেলা করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল না হওয়া সত্তে¡ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সীমিত ব্যবস্থপনার হাসপাতালেই রোগীরা নিয়োমিতভাবে চিকিৎসা নিয়ে গেছেন। গল্পটা শুনতে যতটা ছোট মনে হচ্ছে সাফল্য তার থেকে অনেকগুন বেশী বলে মনে করেন এই ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেয়া বেশ কিছু রোগী। করোনার প্রাদূর্ভাবের শুরুর সময়ে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও পার্শবর্তী জেলাগুলোতে যেসকল চিকিৎসক চেম্বার করতেন তারা হঠাৎ করেই চেম্বার বন্ধ করে দেন করোনার ভয়ে। সে সময়ে ওই সকল ডাক্তারের উপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের অনেক মানুষকেই চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তীতে এক চরম অনিশ্চয়তায় মাঝে পড়তে হয়। ওই সময়ে এ অঞ্চলের রোগীরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই চিকিৎসা নিতে ছুটে আসেন নাম না জানা নতুন এই ডাক্তারের কাছে। ওই সময়টাতে ডাঃ অমিত কুমার বিশ্বাস নিরালশভাবে সেবা প্রদান করে হয়ে ওঠেন এলাকার মানুষের পছন্দের ডাক্তার।


এ বিষয়ে ডাঃ অমিত কুমার দৈনিক দেশকে বলেন,‘‘করোনার শুরুর দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো জায়গাতে করোনার চিকিৎসা দেয়াটা খুব একটা সুখকর ছিলোনা। কারন সেসময় আমরা কতোটা অসহায় ছিলাম তা সবারই জানা। কিন্তু সমস্য হলো রোগীদের তো আর এসকল অজুহাত শোনানো সম্ভব ছিলোনা। একজন রোগী চিকিৎকের কাছে কখন ছুটে আসে তা আমরা সবাই জানি। তাই একজন চিকিৎসক হিসেবে ওই রোগীর কাছে আমার দ্বায়বদ্ধতা রয়েছে। আর সেই দ্বায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমি চিকিৎসা দিয়েছি। তাতে যখন আমি সফল হয়েছি তখন আনন্দে বুক ভরে গেছে আমার। ঠিক তেমনই যখন ব্যার্থ হয়েছি তখন কষ্টটাও পেয়েছি সবথেকে বেশি সেই আমিই ।’’

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত