ঢাকারবিবার , ১৮ জুলাই ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবোল-তাবোল
  5. উদ্যোক্তা
  6. উপসম্পাদকীয়
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কলাম
  9. ক্যারিয়ার
  10. খেলার মাঠ
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ পরিবার
  15. দেশ ভাবনা

ঈদুল আজহা ও শিক্ষার্থীদের ভাবনা

দেশ ডেস্ক
জুলাই ১৮, ২০২১ ৫:১৯ অপরাহ্ণ


প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় আবারো এসেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের প্রাণপ্রিয় উৎসব ঈদুল আজহা। এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে সবার মাঝেই জল্পনা-কল্পনা আলােচনার ঝড় বইছে। কেননা এই উৎসবের মধ্য দিয়েই মুসলমানদের আত্মত্যাগ, সেবা, দান এবং মূল্যবােধের প্রতিফলন ঘটে। আর ঘরের দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। তবে এবারে কুরবানি পশু পর্যন্ত কিনতে অনেককেই ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। যদিও করােনায় থমকে আছে সব। এ যেন এক অন্য রকম ঈদ! ছােট বড় সকলের কাছে বছরের সব থেকে বড় আনন্দ ঈদ উৎসব। দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ও। এবারের ঈদুল আজহা উদযাপন নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেছেন মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ


 

ঈদের আমেজ ফিরিয়ে
দিতে পারে সচেতনতা

কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ আক্রমণের পর থেকেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ দুই উৎসব ঈদ উল আজহা এবং ঈদ উল ফিরতে যেনো বাঁধ পড়ে গেলো। দুই বছর হতে চলল আমরা আমাদের সেই ব্যস্তময়, পরিচিত জগত থেকে ছিটকে পরে আছি। আগে ঈদ আসবে ছুটি দিবে বাড়ি যাব এর মধ্যে যে কি পরিমাণ আনন্দ সেটা এই কটা বছরে ভুলতেই বসেছি প্রায়। এই কয়েকটা বছর যাবত অলস সময় পালিত হচ্ছে। ছুটি আর ছুটি, তাই আর আগের মতো ঈদের সেই আমেজটা নেই, ফিকে হয়ে গেছে ঈদের সেই সাজসাজ রব। ঈদে নতুন কাপড়, ঘুরতে যাওয়া, ঈদের নামাজ সব আজ সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ। তবুও ঈদের আগ মেহেদী পড়ানোর ধুম। ঈদের দিন মাংস কাটা আর সবাইকে হাতে হাতে কাজ এগিয়ে দেয়ার মধ্যেই রয়েছে ঈদ আনন্দ। কেনাকাটা, নতুন পোশাক আর ঘোরাঘুরির পরিবর্তে হয়তো কুরবানির পশুর সাথে সেলফি, হাতে মেহেদি আর মাংসের নতুন নতুন রেসিপি নিয়ে ঈদ কাটাতে হবে। তবে করোনার মহামারীর কথা চিন্তা করে আমাদের এখনো সচেতন থাকতে হবে। আমাদের সচেতনতাই পারবে পরবর্তী ঈদের আমেজ আমাদের ফিরিয়ে দিতে। আমাদের এই ঈদে বর্জন করতে হবে আমাদের সাময়িক আনন্দ, গ্রহণ করে নিতে হবে করোনা দূরীকরণের শপথ। এই ঈদ যেনো শেষ ঈদ হয় করোনার প্রকোপের হাত থেকে এই বিশ্বাসের সহিত আমাদের গত বারের ঈদের মতো এবারের ও ঈদ পালনে রাখতে হবে সীমাবদ্ধতা।

শারমিন জাহান, শিক্ষার্থী, ক্রিমিনোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দুঃসময়ের ঈদে দুঃখীদের
পাশে দাঁড়ান

ঈদ নিতান্তই একটি আবেগপ্রবণ শব্দ। ঈদ মানেই খুশি, ইদ মানেই উল্লাস, ইদ মানেই মোলাকাত, ঈদ মানেই সুখ ভাগাভাগি। এমন অসংখ্য বিশেষণ লুকিয়ে আছে শব্দটির অন্তরালে। তবে অদৃশ্য মরণঘাতী করোনা মহামারীর কারণে গেলো দুই বছর ধরে ইদের আনন্দ উল্লাস উপভোগ করতে পারেনি বিশ্ববাসী। করোনা ভাইরাসের চলমান ভয়াল থাবায় বিশ্বে আবার চলে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আর পবিত্র ঈদুল আজহায় যেসব মুসলিম পরিবারগুলোর উপর কোরবানি ফরজ তারা তাদের সাধ্যমত কোরবানি করে থাকে। তবে এবারের ঈদে শাটডাউন থাকার ফলে দিনমজুররা ঠিকঠাক মত কাজ করতে পারেনি৷ তাদের পাশে দাঁড়ানোও বিত্তবানদের একটি দায়িত্ব। বিত্তশালীরা যদি এমন দুঃসময়ে দুঃখীদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে সবাই মিলে এবারের ঈদ-উল-আজহা আনন্দে কাটানো যাবে৷

মেহেদী হাসান, শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

মুসলিমদের আত্নত্যাগ
ঈদুল আজহা

মুসলিমদের প্রধান দুইটি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে অন্যতম ঈদুল আজহা। এই উৎসবের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের আত্মত্যাগ, সেবা, দান এবং মূল্যবােধের প্রতিফলন ঘটে। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পরিবার পরিজনদের সাথে একত্রিত হয়ে আমরা প্রতিবছর ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করি। কুরবানি করা এবং কুরবানির মাংস বণ্টন করার মধ্যেও থাকে অসীম তৃপ্তি। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আমরা সবাই গতবারের মতাে এবছরেও ঘর বন্দী। এবারের ঈদও যেহেতু গতবারের মতাে পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে তাই আমাদের সকলের উচিত পরিবার-পরিজনদের এই মহামারী থেকে সুরক্ষিত রাখতে সকল স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতে সাহায্য করা। জরুরি প্রয়ােজন ছাড়া আমরা বাড়ির বাইরে যাবাে না। অসহায় এবং দুস্থ প্রতিবেশীদের সাহায্য করার মাধ্যমে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবাে এবং তাদের সুরক্ষিত রাখতে সচেষ্ট থাকবাে। করােনাময় এই ঈদ হােক সবার জন্য সুখময় হােক শান্তিতে থাকুক সবাই এই দোয়া। সবাইকে ঈদ মোবারক।

তামান্না সুলতানা, শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ত্যাগের মহিমায়
ঈদ আনন্দ

ত্যাগের মাঝেই যে প্রকৃত সুখ নিহিত থাকে তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো মুসলিম ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবের একটি ঈদ-উল-আযহা। এই উৎসবকে ঈদুজ্জোহা বা ত্যাগের উৎসবও বলা হয়। কারন ঈদ-উল-আযহা আসলে মুসলমানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মহান আল্লাহর নামে পশু কুরবানি করে৷ আর এই পশু কুরবানির মাধ্যমে নিজের ভিতরের অহংকারকে ত্যাগ করে নিজেকে মহান আল্লাহর দরবারে স্থাপন করে। তাছাড়া এই ঈদের কুরবানিকৃত পশুর কিছু অংশ আত্মীয়স্বজন এবং গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিতে হয় যার ফলে দরিদ্রদের প্রতি ধনীরা দায়িত্ব পালনের একটি সুযোগ পায় এবং একই সঙ্গে আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এভাবেই সকল ভেদাভেদ ভুলে মিলিত হই ঐক্যের বন্ধনে, উপভোগ্য হয়ে ওঠে ঈদ আনন্দ।

মুশফিকুর রহমান ইমন, শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

আবারও অন্যরকম ঈদ

ঈদ শব্দটা শুনলেই মনের ভিতরে অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করে। বিশেষত বাংলা একাডেমি প্রণীত নতুন বানান ‘ইদ’ এর চেয়ে ছোট্টবেলা থেকে ব্যবহার করে আসা ‘ঈদ’ শব্দটার মাঝে। সময়ের স্রোতে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে, কমে গেছে ঈদের আনন্দও। চারদিকে মহামারী, মানুষের হাহাকার আর আতঙ্কের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে গৃহবন্দি থাকা একঘেয়ে জীবনে আসা এই ঈদটাও বাসার মধ্যেই কাটাতে হবে। সামাজিক দূরত্বের কারণে এবার আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে যাওয়া হবে না। পরিবার আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করব ভাবছি। কয়েকজন বন্ধু মিলে ঈদে সংকটাপন্নদের যতটা সম্ভব সহায়তা করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এটাই হয়তো এবারের ঈদে আনন্দ কিছুটা বাড়িয়ে দেবে। আশাকরি একদিন চারপাশ ভাইরাস মুক্ত হবে, মানুষের মধ্যে দূরত্ব আর বৈষম্য দূর হবে। সেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি পর্যন্ত সবাই ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, অসহায়দের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিন আর পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুন্দর দিন কাটান।

ইকবাল হাসান, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

 

আত্মত্যাগের মহিমায়
ঈদুল আজহা

করোনা মহামারির অনিশ্চিত আশঙ্কার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবারেও পালিত হবে ঈদুল আজহা। ঈদের দিন শুরু হয় ঈদের নামাজের জন্য গোসল করে নতুন কাপড় পরিধান করা। ঈদুল আজহা মূলত ত্যাগের উৎসব। অকুণ্ঠ ঈমান আর ত্যাগের মহিমায় আল্লাহর তায়ালার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কুরবানী করে থাকেন। তিন ভাগের এক ভাগ মাংস গরীব-দুঃখীদের মাঝে বন্টন করা হয়। শুধু এই দিনে ত্যাগের মনোভাব থাকলে চলবে না। বরং সারা বছরই আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় নিজ সম্পদ অন্য মানুষের কল্যাণে ত্যাগ করতে হবে।
করোনাকালে যারা অসুখী ও দরিদ্র তাদের জীবনে সুখের প্রলেপ দেওয়া এবং দারিদ্রের কষাঘাত দূর করা সামর্থ্যবান মুসলমানদের বড় দায়িত্ব। তাই মনের পশুত্ব কুরবানী করে আত্মত্যাগের মাধ্যমে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই হোক ঈদুল আজহার অঙ্গীকার।

মাহমুদা টুম্পা, শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

প্রতিবেদক

সর্বশেষ - জাতীয়

আপনার জন্য নির্বাচিত