ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

ইঞ্জিনচালিত ট্রলার

মফস্বল সম্পাদক
আগস্ট ৩১, ২০২১ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা উচিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বালুবাহী বাল্কহেড ও যাত্রীবাহী ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গত শনিবার পর্যন্ত ২২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জানা যায়, দুর্ঘটনার শিকার এ দুই নৌযানের কোনোটিরই নিবন্ধন ও রুট পারমিট নেই। আশঙ্কাজনক হলো, কেবল ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই এ ধরনের এক হাজারেরও বেশি নিবন্ধনহীন ট্রলার চলাচল করছে। এছাড়াও দেশের দক্ষিণাঞ্চল, হাওড় ও পার্বত্য অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় ছোট ছোট ইঞ্জিনবিশিষ্ট এ ধরনের অসংখ্য ট্রলার চলাচল করছে, যার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। অবশ্য দেশের কোথায় কত সংখ্যক ও কী ধরনের নৌযান চলাচল করছে, সেগুলোর শুমারির জন্য কয়েক বছর আগে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল; তবে এখনো তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনিবন্ধিত নৌযানের কোনো ডেটাবেজ নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরগুলোর কাছে নেই।

অন্যদিকে নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে নিবন্ধিত নৌযান রয়েছে ১৩ হাজার ৪৮৬টি। ১৯৯১ সাল থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত নৌপথে ৬১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এতে তিন হাজার ৮০০ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৫২৬ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫০১ জন। উল্লেখ্য, দুর্ঘটনা ও হতাহতের এ হিসাব শুধুমাত্র নিবন্ধিত নৌযানের। অনিবন্ধিত নৌযানকেন্দ্রিক দুর্ঘটনার হিসাব এ সংস্থা রাখে না।

সমস্যা হলো, সারা দেশে চলাচলরত ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের ওপর সরাসরি আইনগত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের। অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ (আইএসও) ১৯৭৬-এর ধারা-৩ অনুযায়ী নৌযানের নিবন্ধন ও প্রতিবছর ফিটনেস সনদ নেওয়ার বিধান থাকলেও মূলত এসব নৌযানের ইঞ্জিন ১৬ অশ্বশক্তির কম ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ফলে এগুলোর রুট পারমিট, সার্ভে (ফিটনেস) ও যাত্রী ধারণ সংখ্যা বেঁধে দিতে পারছে না বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌপরিবহণ অধিদপ্তর। এ একই কারণে ওইসব ট্রলারের চালকের যোগ্যতা কী হবে-সেটাও নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে এ আইনটির সংশোধন প্রক্রিয়া চললেও সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযানে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়নি। এছাড়া ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর জারি করা ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ (নৌরুট পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালায় ট্রলারকে অন্তর্ভুক্ত করেনি নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। বস্তুত আইনি দুর্বলতার সুযোগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নৌপথে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারগুলো বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে এবং এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

ইঞ্জিনচালিত সব ধরনের নৌযান সুপারভিশনের আওতায় আনার পাশাপাশি এসব নৌযানে প্রশিক্ষিত চালক থাকার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বস্তুত কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেশের নৌপথগুলোয় ছোট-বড় শত শত নৌযানের অবাধ চলাচল দিনদিন মানুষের জন্য বিপৎসংকুল ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, দ্রুত যার অবসান হওয়া দরকার। এ বছরের এপ্রিলে পালিত হওয়া নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ছিল-‘মুজিববর্ষের শপথ, নিরাপদ রবে নৌপথ।’ মুজিববর্ষের এ শপথে বলীয়ান হয়ে প্রচলিত নৌপরিবহণ আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি এ খাতে বিদ্যমান সব ধরনের অনিয়ম রোধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া