ঢাকাবুধবার , ২৫ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

আমতলীতে মোবাইল ফোনে লুডুর জুয়া খেলা!

খান মতিয়ার রহমান, আমতলী প্রতিনিধি
আগস্ট ২৫, ২০২১ ৬:৫৭ অপরাহ্ণ


ল্যাটিন লদো থেকে লুডুর উৎপত্তি। লদো মানে আই পেন্ট যার অর্থ দাঁড়ায় আমি খেলি। এক তথ্যসূত্রে জানা যায়, লুডু খেলার জন্য ব্যবহৃত ডাইস এর সঙ্গে প্রাচীন রোমান সভ্যতার নিদর্শনের মিল রয়েছে। ২৪০০ থেকে ২৫০০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে রাইন নদীর তীরে রোমান সেনাদের ঘাঁটি থেকে এমন নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গেছে। যদিও ওই খেলাটি এখন সারা বিশ্বে অনেক বড় আলোড়ন তৈরি করেছে। যার একটি হচ্ছে এনালগ ও অন্যটি হচ্ছে ডিজিটাল সংস্করন। এনালগের বিষয়ে আমরা কমবেশী সবাই বুঝি যে, কাগজের তৈরী কোটে খেলতে হয়। বর্তমানে ডিজিটাল ভার্শন খেলাটিকে আরো সহজ করে দিয়েছে। যা স্মার্ট ফোন ট্যাব ও ইলেকট্রনিকস ডিভাইস দিয়ে খেলা যায়।

বর্তমানে বাংলাদেশে ওই লুডুর ডিজিটাল খেলায় যুক্ত হয়েছে বাজি নামক জুয়া। এই জুয়া খেলা থেকে পিছিয়ে নেই বরগুনার আমতলীর পৌর শহরসহ গ্রাম-গঞ্জের ছাত্র ও বেকার যুবকরা। দিন দিন তারা আসক্ত হচ্ছে এই লুডুর ডিজিটাল জুয়া খেলায়। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে এই বাজি বা জুয়ার প্রভাব।

সরেজমিনে দেখাগেছে, যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তারাও মোবাইল ফোনে ডিজিটাল লুডুর জুয়া খেলার সাথে যুক্ত রয়েছে। পৌরশহরসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার অলিগলি থেকে শুরু করে চায়ের দোকান গুলোতে ও রাস্তার পাশে বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে মোবাইল ফোন দিয়ে লুডুর ডিজিটাল জুয়া খেলছেন। মোট কথা উপজেলার অধিকাংশ ছাত্র ও বেকার যুবকরা এতে ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে। ধীরে ধীরে ছাত্র ও যুবকদের বাজি নামক জুয়ার দিকে আসক্তি অনেকটা বেড়ে গেছে। যা ছাত্র ও বেকার যুবকদের অবক্ষয়ের অন্যতম একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার ওই খেলার মধ্যে জালিয়াতি করে অনেকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এই চক্রটি লুডুর ডিজিটাল অ্যালগরিদম ও প্রোগ্রাম সম্পর্কে অবগত যে কারনে গুটি কোন অবস্থায় থাকাকালীন কোন চালটি উঠবে এবং কোনটি উঠবে না সেটি তারা জানে। যে কারনে হঠাৎ কাউকে বোকা বানিয়ে তাদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অন্যদিকে প্রচলিত আইনে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও শহর ও বিভিন্ন গ্রাম- গঞ্জের প্রায় প্রতিটি চায়ের দোকানে রয়েছে মোবাইল ফোনে লুডু খেলার ব্যবস্থা। অনেকে আবার রাস্তার পাশে বসেই লুডুর জুয়া খেলেন। ছাত্র ও বেকার যুবকদের বেশিরভাগই সকাল-বিকাল-সন্ধ্যায় ওই খেলায় সময় দিচ্ছে।

গোপন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে লুডুর জুয়া খেলার একটি ভিন্ন চিত্র। ছাত্র ও বেকার যুবকরা খেলায় টাকার অংকের পাশাপাশি অনেক সময়ই চা- বিস্কুটের দোকানের বিভিন্ন কোমল পানীয়, সাবান, তৈল অথবা ফাস্টফুড আইটেম জিনিষপত্র বাজি ধরে জুয়া খেলছেন।

একটি বিশ্বস্থ্য সূত্র জানায়, ছাত্ররা তাদের বাবার পকেটের টাকা ব্যতীত আয়ের তেমন কোন উৎস না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়িতে চুরির অভ্যাস গড়ে তুলছেন। প্রতিনিয়ত নিজের বাড়ীতে চুরি করে ধড়া পড়ে পরিবার কর্তৃক শারিরীক ও মানুষীক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন। আবার বাজি ধরা বা লুডুর ডিজিটাল জুয়া খেলতে না পেরে এক পর্যায়ে ওই ছাত্ররাই ঘরের বাহিরে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ছেন। বাজি ধরা বা মোবাইল ফোনে ডিজিটাল জুয়া নামক এই সামাজিক ব্যাধিতে আসক্ত অনেক ছাত্রের পরিবার এখন ধ্বংসের পথে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোবাইল ফোনে ডিজিটাল লুডুর জুয়া খেলার আসরের সক্রিয় এক সদস্য স্কুল শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল কলেজ বন্ধ তাই সময় কাটানোর জন্য বড় ভাইদের সাথে লুডু খেলছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সচেতন লোকজন ও একাধিক অভিভাবকরা জানায়, উপজেলাসহ গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি চা- বিস্কুটের দোকানে সকাল, বিকাল ও সন্ধ্যায় বাজি ধরা বা মোবাইল ফোনে ডিজিটাল লুডুর জুয়া খেলার আসর বসে। তা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। বেশীরভাগ স্থাণীয় বেকার যুবক ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা খেলে থাকে। বাজি ধরা বা মোবাইল ফোনে ডিজিটাল জুয়া খেলার আসর বন্ধ করতে তারা পুলিশ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আমতলী থানার পরিদর্শক (ওসি) মোঃ শাহ আলম হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, বাজি ধরা বা মোবাইল ফোনে লুডুর ডিজিটাল জুয়া খেলার আসরের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন অবগত নয়। খোজ নিয়ে দ্রুত তা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া