ঢাকাশুক্রবার , ১৬ জুলাই ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবোল-তাবোল
  5. উদ্যোক্তা
  6. উপসম্পাদকীয়
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কলাম
  9. ক্যারিয়ার
  10. খেলার মাঠ
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ পরিবার
  15. দেশ ভাবনা

আবোল-তাবোল

নিরুদ্দেশ
জুলাই ১৬, ২০২১ ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ


একপ্রকার কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অনেক দিন  ঢাকা শহরে কেউ প্রবেশ করতে পারেননি। বাইরে যাওয়াও সম্ভব ছিল না। শহরবাসী একরকম ঘরবন্দী হয়ে থেকেছে এতদিন। আর তার পর এলো লকডাউন আর তার পর-পরই শিথিলের ঘোষণা। শিথিল লকডাউনের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবারই চেনা চেহারায় ফিরেছে শহর। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার ডাক সবাই যেন শুনতে পেয়েছে একবারেই!


প্রতিটি রাস্তায় ছিল যানবাহনের বাড়তি চাপ। দুঃসহ যানজট ফিরে এসেছে। যত কাজ জমা হয়েছিল সবই যেন একদিনে শেষ করে ফেলতে হবে। মানুষের ছোটাছুটি হুলস্থুল দেখে এমনটিই মনে হয়েছে।

সরকারী অফিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক বীমা সবই মোটামুটি খোলা ছিল। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বহুবিধ কর্মকাণ্ড শহরে লক্ষ্য করা গেছে। সুযোগ পেয়ে প্রথম দিনেই বাড়ি ফিরে গেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ। বিশেষ করে যারা আটকে পড়েছিলেন তারা এক মুহূর্ত দেরি করতে রাজি ছিলেন না। বাস টার্মিনাল লঞ্চ টার্মিনাল রেলওয়ে স্টেশনে ছিল গায়ে গা-লাগা ভিড়। সামনে ঈদ। এ উপলক্ষেও বাড়ি ফিরছে মানুষ। তবে ঈদে বাড়ি ফেরার সময় সাধারণত যে আনন্দ উচ্ছাস দেখা যায় এবার ততটা নয়। যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন ধারণা হয়েছে। মানুষগুলো কেমন যেন বিমর্ষ। হতাশ। শুকনো চেহারা। এসব যে করোনাকালের প্রভাব তা সহজেই অনুমান করা যায়।

অনুমানকে সত্য প্রমাণ করে মোঃ আকবর নামের এক যাত্রী বলছিলেন, আমি একটা সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করতাম। করোনায় সেই ব্যবসা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। শহরে বাসা ভাড়া দিয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। বাড়ি ফিরে যাব, তখনই জানা গেল স্ত্রী করোনা পজিটিভ। ঋণ করে তার চিকিৎসা করিয়েছি। এখন স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছি। ঈদ নিয়ে নয়, সামনের দিনগুলো নিয়ে ভাবছেন বলে জানান তিনি। ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছিলেন যারা তারা আবার দুশ্চিন্তা করছিলেন ঢাকায় ফেরা নিয়ে। সব মিলিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার ছবিটা আমূল বদলে গেছে বলেই মনে হলো।

মহামারীকালে দাপট বাড়ছে ডেঙ্গুর

করোনাভাইরাস নিয়ে যখন বড় শঙ্কা, ঠিক তখনই দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু। রাজধানীবাসী মশাবাহিত এ রোগে আগেও ভুগেছেন। তবে এখন এই মহামারীর কালে যখন জীবন এমনিতেই বিপর্যস্ত তখন ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দুশ্চিন্তা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। কোন কোন মৃত্যুর খবর আলোড়ন তুলেছে শহরজুড়ে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অন্য পরিবারগুলোর কান্নাও একে একে সামনে আসতে শুরু করেছে। অবশ্য অনেক আগেই রোগটি বাড়তে পারে বলে ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। গত জুন মাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডেই এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে।

কোথাও কোথাও এডিসের ঘনত্ব বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সতর্ক করে দিয়ে গবেষকরা বলেছিলেন, জুলাই ও আগস্টে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং বর্তমানে আমরা দেখছি, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সত্যি সত্যি বাড়ছে। দুই একদিন আগের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। এখন পর্যন্ত দেশে মোট রোগীর সংখ্যা ৯১৪ জন। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, চলতি মাসেই ৫৪১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে সব হাসপাতালেই নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে কোন রোগী এলে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু টেস্টও করতে হবে। কোভিড-১৯ টেস্টে কেউ নেগেটিভ হলেও ডেঙ্গু আক্রান্ত কিনা তা টেস্ট করিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। অর্থাৎ, ডেঙ্গু নিয়েও আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের। তবে এ ক্ষেত্রে গুরু দায়িত্ব বর্তায় সিটি কর্পোরেশনের ওপর।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কিছু উদ্যোগও চোখে পড়ছে। উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে এমন বহু বাসা বাড়ি চিহ্নিত করছেন। জরিমানা করা হয়েছে তাদের। আরও বেশ কিছু কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে কেন তৎপর হলেন? আগে বিষয়টি নজরে আসেনি? জানতে কথা হচ্ছিল আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। জবাবে দেশ’কে তিনি বলছিলেন, সিটি কর্পোরেশন সারা বছরই মশা নিধনের কাজ করে। বর্ষা মৌসুমে কাদাজলে মশা বেড়ে যায়। তাই তৎপরতাও বাড়ানো হয়। তবে রাজধানীবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এডিস মশা নিধন সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। বলেন, বিভিন্ন বাসার ছাদে অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে বা পেছনের অংশে জমিয়ে রাখা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। আমরা জরিমানা করছি।

কিন্তু নিজেরা সচেতন না হলে ডেঙ্গু মোকাবেলা সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। মেয়রের এই আহবান আসুন একটু আমলে নিই। এত এত মানুষের শহর। নিজেরা একটু সচেতন না হলে, সবাই মিলে কাজ করতে না পারলে আসলেই বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে ডেঙ্গু।

হাট বসার আগেই গরু 

আগামীকাল শনিবার থেকে রাজধানীতে চালু হচ্ছে কোরবানির পশুর হাট। শহরে এবার ১৯টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯টি হাট বসার কথা রয়েছে। তবে হাট বসার আগেই রাজধানীতে দেদার গরু ঢুকতে শুরু করেছে। কোন কোন হাটে বেচা কেনাও বেশ জমজমাট। ঈদুল-আজহার দিন পর্যন্ত হাটে পশু কেনা-বেচা চলবে।

আগেভাগে পশু নিয়ে আসার ফলে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা এরই মাঝে স্পষ্ট হয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা স্বাস্থ্যবিধির ধার কেউ ধারছেন না। এভাবে চলছে কোরবানির ঈদ শেষতক কতটা উদযাপন হবে বলা মুশকিল। আরও বিশৃঙ্খর অবস্থা সৃষ্টির আগেই বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্টরা নজর দেবেন, আমরা তাই আশা করি।

প্রতিবেদক

সর্বশেষ - জাতীয়

আপনার জন্য নির্বাচিত