ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

আদম বেপারির খপ্পরে ২০ পরিবার নিঃস্ব

অরবিন্দ রায়, পলাশ প্রতিনিধি
আগস্ট ২৬, ২০২১ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ


নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজুল ইসলাম নামে এক আদম বেপারির বিরুদ্ধে।



এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই আদম বেপারির বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার পলাশ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী পরিবার। সিরাজুল ইসলাম পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের মাঝের চর গ্রামের মৃত করম আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন, পলাশ থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াছ।


ভোক্তভোগী পরিবার জানায়, আদম বেপারি সিরাজুল ইসলাম মাঝের চর গ্রামের প্রায় ২০টি দিনমজুর পরিবারের সদস্যদের বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। পরিবারের লোকজন বিদেশে পাঠানোর জন্য চাপ দিলে সিরাজুল ইসলাম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে নিরুপায় হয়ে তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।


মাঝের চর গ্রামের রুবেল মিয়া জানান, তিনি দিনমজুরের কাজ করেন, গত দুই বছর আগে তার গ্রামের আদম বেপারি সিরাজুল ইসলাম তাকে ক্রোয়েশিয়া পাঠাবে বলে ৭ লাখ টাকা চায়। পরে ভিসা তৈরি করার কথা দেড় লাখ টাকা দাবি করলে রুবেল মিয়া স্থানীয় একটি সমিতি থেকে ঋণ তুলে বিদেশের জন্য টাকা জমা দেয়। টাকা নেওয়ার পর তাকে আর বিদেশে পাঠায়নি। তিনি এখন ঋণের বোঝা নিয়ে অসহায়ত্ব ভাবে দিনাযাপন করছেন।


একই গ্রামের আরিফুল হক লিটন জানান, তিনি সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে আয় উপার্জন করতেন। পরিবারের অভাব অনটন দুর করতে গত বছর খানেক আগে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নে নিজের সিএনজি অটোরিকশাটি বিক্রি করে সিরাজুলকে আড়াই লাখ টাকা দেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাকে মাসের পর মাস ঘুরিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এখন কর্ম হারিয়ে দিনমুজুরের কাজ করছেন।


একইভাবে ওই গ্রামের আলমগীর হোসেন, জসিমউদ্দিন, মামুন মিয়াসহ প্রায় ২০টি পরিবারের সদস্যদের বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সিরাজুল ইসলাম।


ভোক্তভোগীরা আরো জানায়, টাকা নেওয়ার পর থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বললে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতেন সিরাজুল। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে সিরাজুল ইসলাম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ বলে জানা যায়।


এবিষয়ে পলাশ থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া