1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. Khulnabureaudesh@gmail.com : Khulna bureau : Khulna bureau
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ১১:১৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান মৃত্যুর ঘটনাঃ ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত নোয়াখালী’র সুবর্ণচরে কৃষক হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক-৩ করোনা উপসর্গ নিয়ে কন্ঠশিল্পী রিটনের মৃত্যু ভাসছে চাঁদপুর শহর বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি; ২০ জেলে উদ্ধার উপজেলা চেয়ারম্যান শিশিরকে স্বপদে বহালের দাবীতে কচুয়ায় মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করোনার মধ্যে অফিস খুলে দিয়ে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছেঃ রিজভী বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তিনজনকে সোনারগাঁয়ে সংবর্ধনা কোস্টগার্ডের অভিযানে টেকনাফ নাফনদীর জইল্যাদিয়া দ্বীপ হতে ৮০ হাজারইয়াবা উদ্ধার মাটিরাঙ্গায় পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস: সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়লেও আবাসস্থল ও প্রজননের বিপন্ন পরিবেশের উন্নয়ন হয়নি

সুনীল কুমার দাশ, ব্যুরো প্রধান (খুলনা)
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

আজ ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘ রয়েছে বিশ্বের এমন ১৩টি দেশ বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালেশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম ও রাশিয়ায় প্রতি বছর এ দিনটি পালিত হয়।


রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান আবাসস্থল সুন্দরবন হলেও ইতিপূর্বে তেমনভাবে বাঘ রক্ষায় কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। তবে বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাঘ বাঁচাতে নানা উদ্যোগের সাথে সাথে বাংলাদেশেরও অনেকগুলো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যার ফলে সুন্দরবনে গত একশো বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও সুন্দরবনে বাঘের আবাসস্থল ও প্রজননের বিপন্ন পরিবেশের উন্নয়ন ও সুরক্ষা হয়নি এখনও।  বাঘের প্রধানতম আশ্রয়স্থল সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষনে প্রকল্পভিত্তিক কিছু কাযর্ক্রম গ্রহন করা হলেও তা কোনভাবে কাযর্কর ও দৃশ্যমান ভুমিকা রাখছে না। ভবিষ্যতে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রান রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ও গবেষনা ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে বিশ্ব মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে বাঘের নিরাপত্তা এবং আবাসস্থলের কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে বলে মনে করছেন বনবিভাগ। বন বিভাগ বলছে, সরকার ও বনবিভাগের কাযর্কর পদক্ষেপের ফলে গত পাচ বছরে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ১১৪টিতে উপনীত হয়েছে। এই অবস্থা ধরে রেখে সুন্দরবনে টাইগার সেফটি জোনিং পদ্ধতির মাধ্যমে সুরক্ষা কাযর্ক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে সবর্শেষ টাইগার এ্যাকশান প্লান অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যেই সুন্দরবনে বাঘের ক্যারিং ক্যাপাসিটির পরিমিত সংখ্যায় পৌছানো সম্ভব বলে মনে করছেন বনবিভাগ ও বিশেষজ্ঞরা।

সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের মোট ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের  পূর্ব সুন্দরবন ও পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগরূপে দুটি প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে শরণখোলা ও চাঁদপাই এবং পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ অবস্থিত। এছাড়া ১৭টি ষ্টেশন ও ৭২টি টহল ফাঁড়ি রয়েছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বাগেরহাটে ও পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের সদর দপ্তর খূলনায় অবস্থিত। এ দুই বিভাগে মোট ১’হাজার ১’শ ৭১জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। প্রানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের এ মহামূল্যবান সম্পদ বাঘের মৃত্যুর জন্য ৫’কারনকে চিহ্নিত করেছেন। তারা বলছেন, শিকারীদের জালে আটকে, বনদস্যুদের গুলিতে, প্রাকৃতিক ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে অজ্ঞতা ও সচেনতার অভাবের কারনে বনত্যাগী এসব রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আর বনে ফেরা হয় না। বন সংলগ্ন লোকালয়েই ঘটছে তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু। সুন্দরবন বিভাগের লোকবল ও প্রয়োজণীয় উপকরন সংকটের কারনে বাঘ সংরক্ষনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন ও নিরাপত্ত দিতে ব্যাত্যয় ঘটছে। ফলে সুন্দরবনের বাঘের স্বাভাবিক বংশ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

বিশ্বে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড এবং গ্লোবাল টাইগার ফোরামের তথ্য মতে, বিশ্বে বাঘ রয়েছে এমন ১৩টি দেশে ১৯০০ সালে বাঘ ছিল এক লাখ। এরপর গত এক শতাব্দীতে পৃথিবীতে বাঘের সংখ্যা ৯৬শতাংশ কমে ২০১৩-১৪ সালের জরিপে দাড়ায় মাত্র ৩,২০০টিতে। একইভাবে সুন্দরবনে ২০১০ সালের জরিপে সাড়ে চারশো বাঘ থকেলেও ২০১৩-১৪ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশের বেশী কমে মাত্র ১০৬টিতে দাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১০ সালে রাশিয়া টাইগার সামিট ও ২০১৪ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাঘ সমৃদ্ধ ১৩টি দেশ ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুন করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু দেশগুলোর কাযর্কর উদ্যোগ না থাকায় এখনও বাঘের অস্বিত্ব সংকটে রয়েছে। তবে সবর্শেষ ২০১৭ সালের শেষের দিকে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে এবং ২০১৮ সালের প্রধমার্ধে খুলনা ও বাগেরহাট রেঞ্জে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ জরিপের ফলাফলে বাঘের সংখ্যা ১১৪টিতে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেষ্ট্রি এন্ড উড টেকনোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত জানান, একশো বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও সুন্দরবনে বাঘের আবাসস্থল ও প্রজননের বিপন্ন পরিবেশের উন্নয়ন ও সুরক্ষা করতে পারেনি বনবিভাগ ও সরকার। বাঘের প্রধানতম আশ্রয়স্থল সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষনে প্রকল্পভিত্তিক কিছু কাযর্ক্রম গ্রহন করা হলেও তা কোনভাবে কাযর্কর ও দৃশ্যমান ভুমিকা রাখছে না। তাই ভবিষ্যতে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রান রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব বিলুপ্তিরোধে দীর্ঘমেয়াদী ও গবেষনা ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী তাদের।

প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী বলছেন, ২০১৫ সালের বাঘ জরিপের পর গত পাচ বছরে সুন্দরবনে বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুরক্ষা,অবৈধ শিকার ও হত্যা বন্ধে জিরো পোচিং থিওরী গ্রহণ, বাঘের বিভিন্ন হটস্পটগুলোতে যথাযথ মনিটোরিং এবং বাঘ সংরক্ষনে টাইগার প্রজেক্ট বাস্তবায়নসহ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যে কারনে সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঘের সাথে বাচ্চাও লক্ষ্য করা গেছে। এটা দিয়ে প্রমানিত হয় বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ১১৪টিতে পৌছেছে।

বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার বিভাগীয় কর্মকর্তা মো: মোদিনুল আহসান বলেন, বন বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাঘের আবাসস্থল ও প্রজননের পরিবেশের উন্নয়নে টাইগার সেফটি জোনিং পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কাযর্ক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে সবশেষ টাইগার এ্যাকশন প্লান অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের ক্যারিং ক্যাপাসিটি ২৫০-এর টার্গেট অর্জন সম্ভব। বিশেষ করে বর্তমান করোনাকালীন সময়ে যেভাবে সুন্দরবনকে তার স্বকীয় বৈশিষ্ঠ্যে থাকার সুযোগ পেয়েছে এভাবে সংরক্ষন করা গেলে সুন্দরবন বাঘের সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে খ্যাতি লাভ করবে বলে প্রত্যাশা তার।

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:০৯
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৩১
    যোহরদুপুর ১২:০৪
    আছরবিকাল ৩:২৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৩৭
    এশা রাত ৭:৫৯

@ স্বত্ত দৈনিক দেশ, ২০১৯-২০২০

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ